তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হল দুই হেভিওয়েটকে!

জোনাকি পণ্ডিত: নির্দল প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমনই বার্তা দিয়েছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষমেশসেই সিদ্ধান্তই কার্যকর হল। দল বহিষ্কৃত হল প্রয়াত তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন তনিমা চট্টোপাধ্যায় ও পুর নিগমের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক তথা পুরভোটের অন্যতম প্রার্থী দেবাশিস কুমার। তিনি জানিয়েছেন সারা জীবনের জন্য দল এই দুজনকে বহিষ্কার করেছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে আর তাঁরা কখনোই দলে ফিরতে পারবেনা।

ঘাসফুল শিবির তনিমা চট্টোপাধ্যায়কে প্রথমে প্রার্থী তালিকায় জায়গা দিলেও পরে তাঁকে সরিয়ে, ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন করা হয় বিদায়ী কাউন্সিলর সুদর্শনা মুখোপাধ্যায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনার পরই নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। যদিও তনিমা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন তিনি তৃণমূলেই আছেন, ভবিষ্যতে তৃণমূলেই থাকবেন।তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পরও মনোনয়ন তোলেননি তিনি। তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে জানতে পেরে তিনি বলেন, দলের সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ হয়নি। তাঁকে কিছু জানানোও হয়নি। তনিমা চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “এলাকার মানুষ তৃণমূল প্রার্থীকে চাইছেন না, তাই নির্দল হিসেবে লড়বেন তিনি। পাশাপাশি, দাদা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।”

এদিকে ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল প্রার্থী সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সাল থেকে তিনি আর তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য নন। তাঁর সদস্যপদ এখনও পুনর্নবীকরণ করা হয়নি। সুতরাং বহিষ্কারের প্রশ্নই উঠছে না। তাই দল নেতার নির্দেশে মাথা ঘামায়নি তিনি। তবে নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে ববি হাকিম, দেবাশিস কুমার-সহ তৃণমূলের অনেককেই জানিয়েছিলেন তিনি। নির্দল প্রার্থী হয়েও তিনি এখনও নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক বলেই মনে করেন। ঘাসফুল শিবির এবার তাঁকেও বহিষ্কার করার কথা জানাল।

সচ্চিদানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি করেন, তিনি যখন তৃণমূলেই নেই, তখন বহিষ্কার করার কোনও প্রশ্নই আসে না। তাঁর দাবি, নিজেকে তিনি তৃণমূলের নেতা হিসেবে নয় একজন সমর্থক হিসেবেই উল্লেখ করেন। তাই তাঁর কথায়, বহিষ্কার করার বিষয়টাই ভিত্তিহীন।

close