জ্যোতি বসুর স্মরণে বামেদের ফেলে আসা দিন!

অদিতি সরকার: ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু। কমিউনিস্ট নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের এই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১০ সালের এই দিনে ৯৫ বছর বয়সে তিনি প্রয়াত হন। ভারতীয় এই রাজনীতিবিদের শৈশব কেটেছে বাংলাদেশে। পৈতৃক ভিটা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বারদীতে।

১৯১৪ সালের ৮ জুলাই এক শিক্ষিত উচ্চবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম। ডাকনাম ছিল গনা। পিতা নিশিকান্ত ছিলেন পেশায় ডাক্তার এবং মা হেমলতা ছিলেন গৃহবধূ।
তিনি লেখাপড়া করেছেন কলকাতার অভিজাত স্কুল ও কলেজে। ইংরেজী সাহিত্যে অনার্স নিয়ে বিএ পাশ করেন প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে। তখনও অবধি তিনি মার্কসবাদের সংস্পর্শে আসেননি। তাঁর পরিবারের মধ্যে স্বদেশী ও বৃটিশ বিরোধী চেতনাবোধ ছিল, যা স্বাভাবিক কারণেই বালক ও তরুণ জ্যোতি বসুর মধ্যে সঞ্চায়িত হয়। তাঁর পিতার সঙ্গে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ট।

কলকাতায় পড়াশোনা শেষে তিনি লন্ডন গিয়েছিলেন ব্যরিস্টারি পড়তে। বিলাত থেকে ব্যরিস্টার হয়ে তিনি দেশে ফিরে আসলেন ঠিকই কিন্তু ব্যরিস্টারী করলেন না। বদলে হলেন কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষনিক কর্মী। বিলাতে থাকাকালীন তিনি ব্যরিস্টারী পাশ করার পাশাপাশি আরেকটি অনেক বড় অর্জন করেছিলেন। তা হলো মার্কসবাদে দীক্ষাগ্রহণ। ব্যরিস্টার জ্যোতি বসু দেশে ফিরলেন কমিউনিস্ট হয়ে। ১৯৭৭ সাল থেকে টানা ২৪ বছর তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বারবার নির্বাচনে তার দল বিজয়ী হয়েছিল। এমন ঘটনা পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। ২৪ বছর মুখ্যমন্ত্রীত্ব করার পর দায়িত্বটি তুলে দেন তারই দলের কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে।

২০০১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্যপদ ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে বিধানসভার সঙ্গে তাঁর ৫৫ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। বিধানসভায় জ্যোতি বসুর শেষ বার্তা ছিল ‘প্রশংসা বিষবৎ, নিন্দা অমৃতসমান’। যদিও অবসর গ্রহণের পরও বিধাননগরের মুখ্যমন্ত্রী আবাস ইন্দিরা ভবনেই তার আজীবন বসবাসের ব্যবস্থা হয়। ২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর উত্তরবঙ্গ সফরে যান। ২৪ ডিসেম্বর যান সিঙ্গাপুর সফরে। ২০০৫ সালের ২৩ জুলাই বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন বর্ষীয়ান জ্যোতি বসু। সেই বছরই নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সিপিআই-এর অষ্টাদশ পার্টি কংগ্রেস জ্যোতি বসুকে দলের পলিটব্যুরো সদস্য হিসেবে পুননির্বাচিত করে। ২০০৬ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি পুণরায় বার্ধক্যের কারণে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি চাইলে তাঁর অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হয়। ২০০৬-এর ১৪ নভেম্বর ফের বাড়িতে পড়ে গিয়ে কোমরে চোট পান তিনি।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি ভর্তি হন হাসপাতালে। সতেরো দিনের দীর্ঘ অসুস্থতার পর ১৭ জানুয়ারি জ্যোতি বসুর জীবনাবসান ঘটে। মরণেও পরেও তিনি মানুষের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেন। তাঁর দেহের সৎকার হয়নি। তিনি তাঁর চোখ দান করে গেছেন। তাঁর মরদেহ দিয়ে গেছেন মেডিক্যাল কলেজের গবেষণায়।

close