করোনার জেরে নিশ্চিহ্ন মহারাজ নন্দকুমারের মেলা

জোনাকি পণ্ডিত: বীরভূমের নলহাটির ভদ্রপুর গ্রামের পশ্চিমে আকালিপুর গ্রাম আর এখানেই রয়েছে মহারাজ নন্দকুমার প্রতিষ্ঠিত গুহ্য কালী মন্দির। ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে মায়ের এই মূর্তিকে তন্ত্র সম্মতভাবে বেদীমূলে স্থাপন করেন নন্দকুমার। এই মাতৃমূর্তি ও তাই গৃহীদের কাছে অপ্রকাশ্য, একমাত্র সাধকদেরই আরাধ্যা দেবী তিনি। তবে মূলত কালীমূর্তি যেমন দেখতে হয়ে থাকে গুহ্যকালী মূর্তি সে রকম নয়।

 

দেবীকে দেখা যায় পা মুড়িয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহের পঞ্চমুন্ডির আসনের উপর সর্পের বেদীতে বসে আছেন। এই কষ্টি পাথরের তৈরি দেবী মূর্তি আজকের নয়। এই মূর্তির রয়েছে এক বিশাল ইতিহাস। যে ইতিহাসের শুরু মগধরাজ জরাসন্ধের সময়কালে। এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই অর্থাৎ প্রায় ২৫০ বছর আগে মকর সংক্রান্তির দিন নদীতে স্নানকে কেন্দ্র করে এখানে একটি মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। তবে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা বেশ ক-বছর করোনা সংক্রমনের জেরে বন্ধ হতে বসেছে।

 

মন্দিরের সেবায়েত দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “মকর সংক্রান্তির পূন্য তিথিতে এখানকার ব্রাহ্মণী নদীতে পুণ্যস্নানকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর মেলার আয়োজন হয়ে থাকে। মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই মেলা হয়। একসময় বিশাল এলাকা জুড়ে এই মেলা হতো। তবে পরবর্তীকালে জায়গা কমে যাওয়ার কারণে মেলা কিছুটা হলেও ছোট হয়েছে। আর গত বছর থেকে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর মেলার কোন আয়োজন করা হয়নি।”

 

সেইসঙ্গে গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, “প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির দিন ধুমধামে এখানে মেলা হয়ে থাকলেও গত বছর থেকে আমরা গ্রামবাসীরা যারা মেলার আয়োজন করে থাকি তারা মেলার আয়োজন করিনি। মূলত করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকার কথা মাথায় রেখে এই মেলার আয়োজন করা থেকে আমরা বিরত থেকেছি।”

close