নাগাল্যান্ডে ‘গণহত্যা’ !

অদিতি সরকার: গ্রামবাসীদের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল নাগাল্যান্ড। এফআইআর দায়ের হল আধা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। নাগাল্যান্ড পুলিশ অভিযোগ এনেছে, সাধারণ নাগরিকদের খুন করাই বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশকে না জানিয়ে কেন অভিযান চালানো হল, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে ওই এফআইআরে। বলা হয়, ‘পুলিশের সাহায্য চেয়ে কোনও আবেদন করা হয়নি। তাই এটা স্পষ্ট যে, নিরাপত্তা বাহিনীকে খুন করা ও আহত করাই ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর উদ্দেশ্য।’

নাগাল্যান্ডের মন জেলায় সীমান্তবর্তী তিরু গ্রামে অনুপ্রবেশ রুখতে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর অভিযান চালায়। আর সেই অভিযানেই ঘটে যায় বড় ‘ভুল’। শনিবার রাতে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন নিরপরাধ গ্রামবাসী। কমপক্ষে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। মৃত্যু হয়েছে এক জওয়ানেরও।

সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই ওই এলাকায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিল সেনাবাহিনী। বেশ কিছু নির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই জঙ্গি দমন অভিযান চলছিল। শনিবারও রাতেও সেইমতো মায়ানমার- নাগাল্যান্ড সীমান্ত সংলগ্ন মন জেলার তিরু গ্রামে সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। অনুপ্রবেশকারী সন্দেহেই এই গুলি চালানো হয়। আর তাতেই প্রাণ হারায় একাধিক গ্রামবাসী। এই ঘটনায় সমবেদনা জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার সকালেই টুইটে তদন্তের আশ্বাস দেন তিনি। সোমবার লোকসভায় এই ইস্যুতে তিনি বিবৃতি দেবেন বলে সূত্রের খবর। নাগাল্যান্ডের বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী তেমজেন ইম্মা আলং-এর দাবি, গোয়েন্দাদের তথ্য নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা নিছকই অজুহাত। এই ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ বা ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে সম্বোধন করেছেন তিনি।

close