‘ঘরশত্রু বিভীষণ’, কটাক্ষ সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের!

অদিতি সরকার: কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের লোকসভা কেন্দ্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, পুর নির্বাচন প্রসঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মতও পোষণ করেন। আর সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিষেক তাঁর ‘ব্যক্তিগত মত’ জানিয়ে বলেন, “এখন মেলা, খেলা, ভোট সব বন্ধ রাখা উচিত। দু’‌মাস সব বন্ধ রাখা উচিত। মানুষ বাঁচলে আমরা বাঁচব”। আর এতেই পাল্টা খোঁচা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই বিরোধ অব্যাহত থাকতেই কল্যাণের বিরুদ্ধে এবার ক্ষোভ উগড়ে দেন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। তিনি বলেন, ‘ঘরশত্রু বিভীষণরাই’ দলের ক্ষতি করে।

উল্লেখ্য, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগেই তাঁর ‘ব্যক্তিগত মত’  প্রকাশ করে বলেন, “এখন মেলা, খেলা, ভোট সব বন্ধ রাখা উচিত। দু’‌মাস সব বন্ধ রাখা উচিত। মানুষ বাঁচলে আমরা বাঁচব।” অভিষেকের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে কল্যাণের দাবি, ‘অভিষেকের এই মন্তব্য পারতপক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধাচারণ। এভাবে রাজ্য সরকারকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।’ কল্যাণের বিরুদ্ধে সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের পাল্টা জবাব, “সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার সাংসদ। তাঁর যদি কোনও মন্তব্য থাকত তবে তা দলের অন্দরে প্রকাশ করা উচিত ছিল। তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প তিনি নিজেই। কিন্তু এভাবে যদি ঘরশত্রু বিভীষণ নিয়ে বাস করতে হয় তাহলে দলেরই সমস্যা।”

প্রসঙ্গত, কল্যাণ-অভিষেক সংঘাত প্রকাশ্যে আসতেই উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরোধী অবস্থানেই অনড় রইলেন দলীয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রয়োজনে দল থেকে তাড়িয়ে দিক। এমন কথাও শোনা যায় শ্রীরামপুরের সাংসদের আওয়াজে। অভিষেককে নেতা হিসেবে মানতে রাজি নন, সাফ জানান তিনি। কল্যাণের দাবি, ‘কেন একজন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নিজস্ব মত থাকবে, যার সঙ্গে দলের মিল নেই।’ তিনি বলেন, ‘দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদটি সর্বক্ষণের। তাই এই পদে থেকে কারও ব্যক্তিগত কোনও মত থাকতে পারে না’।

close