চন্দননগরের ফরাসডাঙ্গাতে আলোর নয় ভোটের মেজাজের উত্তেজনা

শ্রাবন্তী দাস : বহু পূর্বে ফরাসি উপনিবেশের ভোট ঘিরে মানুষের আগ্রহ ছিল, সেহেতু বর্তমানে চন্দননগরের পুরনিগম ভোট নিয়ে মানুষের উত্তেজনার ঘাটতি কম নেই! এবার পুরনিগমের ভোটে একমাত্র ব্যতিক্রমী পুর নিগম। ভোটের দিনে সকাল থেকেই মানুষের মধ্যে বিশেষ চাঞ্চল্য লক্ষ করা যায়। সকল থেকেই উৎসাহের সাথে ভোট পর্ব শুরু হয় চন্দননগরে। অতিমাত্রায় ভিড় হয়নি ঠিক কিন্তু সাধারণ জনগণের উপস্থিতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। ভোট কেন্দ্রে চার বিরোধী দলের উপস্থিতি দেখা মিললেও, কোনওরকম বিবাদের সূচনা হয়নি। চন্দননগরে ১৪৪ জারি হওয়ায় সকাল হতেই আসা-যাওয়া রাস্তা গুলোতে সকলের কড়াকড়ি পর্যবেক্ষণ চলছে, সঙ্গে ফেরিঘাট গুলোতেও জোর কদমে পুলিশের শীর্ষ বাহিনী নজরে রাখছেন।

২০০৫ সালে পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচনে সিপিআইএম ২০টি আসন পায় চন্দননগরে। এছাড়া ১৩ টি আসনের ১০টি তৃণমূলের এবং অবশিষ্টাংশ ৩ টি অন্যদের দখলে যায়। বাম রাজত্ব অবসানের চূড়ান্ত পর্যায়ে ২০১০ সালে চন্দননগরে পুরভোটে ৩৩ টি আসনের ভোটে তৃণমূল বিপুল ভোট ২৩ টি আসন জয় করে চন্দননগর আধিপত্য করে। সে সময়ে বামেদের জোটে কেবল ১টি আসন এবং অন্যান্য প্রার্থীর ২ টো আসন মেলে। এটা ঠিক ২০১৫ সালে সংখ্যা হ্রাস পায় কিন্তু পুনরায় চন্দননগরে তৃণমূলের রাজ্য-অভিষেক ঘটে। ২০১৫ তে চন্দননগরে পৌর কর্পোরেশনের নির্বাচনে ২১টি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল এবং অবশিষ্টাংশ ৭টি আসন সিপিআইএম, ১টি আসন ফরোয়ার্ড ব্লক , ৩টি আসন কংগ্রেসের আর ১টি আসন বিজেপির বরাদ্দ হয়।

চন্দননগর সংলগ্ন এলাকায় নিকাশি জমা জলা ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা ছিল দীর্ঘদিনের। ভোটের গরমে বিজেপিও বহুবার উৎসাহ দেখাতে পিছুপা হয়নি,পদ্ম শিবির প্রচার নামিয়ে ছিল। কিন্তু নিকাশি নর্দমা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে সড়ক ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নত করা , জল সরবারহ, শৌচাগার ব্যবস্থার উন্নতি, শিক্ষার উন্নতি, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যণ এবং সংষ্কৃতিমূলক উন্নয়ন-সহ একাধিক সমস্যার সমাধানে এবার ভোট জয় করে নিতে চায় তৃণমূল।
এতঃপরে ভোটের উৎসবে সাধারণ জনগণের মেজাজ তুঙ্গে হলেও এখনও অবধি একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দেখা মেলেনি।

close