কবি ও মোথা শিল্পী প্রতাপ

অভিমান্য পাল (নদিয়া) : তাঁর শিল্পের হাতেখড়ি বেশি দিনের নয় । নৃসিংহপুর হাই স্কুলে পড়ার সময় এলাকায় বসবাসকারী শিল্পী বিমল পোদ্দারের সংস্পর্শে আসা । দীর্ঘদিন-দীর্ঘক্ষণ বসে বসে কাজ দেখা , তারপর ওই শিল্পীর ফেলে দেওয়া কাজের বাড়তি অংশ কুড়িয়ে নিয়ে চলে আসে নিজের বাড়ি । সেগুলো নিয়ে ভাবনা চলে বেশ কিছু দিন । তারপর ক্রমে ক্রমে শুরু হয় ঠুকঠাক । কিন্তু একে নেশা হিসেবে নিলেও পেশায় সে সামান্য গৃহশিক্ষক ।

এসবের মাঝে ওর চোখ চলে যায় বাঁশের ঝাড়ে , এখন বাঁশের মোথা দিয়ে তৈরি করছে একের পর এক শিল্প । ও শুধু শিল্পী নয় কবিতার জগতে এক প্রতিভাবান তরুণ কবিও বটে । শান্তিপুর শহর থেকে কিছু দূরে গঙ্গা নদীর কাছাকাছি নৃসিংহপুরের হালদার বাসিন্দা আনন্দ হালদারের ছোট ছেলে প্রতাপ হালদার ( জন্ম ১৯৮৬ ) ।

কালনা কলেজ থেকে বি.এ পাশ করার পর রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে এম.এ করে । ২০১৯-এ প্রথম কবিতার বই “ডোয়া” প্রকাশিত হয় । ওর কবিতায় পাওয়া যায় খালি পায়ে কাজসারা মায়ের নিশ্চিন্ত উঠোন । দিন-আনা দিন খাওয়া মেহনতি পুরাণ । ডোয়ায় আকাঁ সূর্য-ওঠা আলপনা । শুধু তাই নয় চোখে ভেসে ওঠে গ্রাম বাংলার ভিটেমাটি , বটতলা , বাটনা বাটার শাঁখাপলার উচ্ছ্বলতা এরকম নানান দৃশ্য ।

কবিতার পাশাপাশি মোথাশিল্প চর্চাতেও সাধনা প্রবল । তাই বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রতাপের কাছে অনুরোধ যেন একটা সুন্দর প্রদশর্নী হয় ।এমন ভালো কাজ আড়ালে না রেখে সকলের মুখোমুখি হোক । তবে এখনও পর্যন্ত কোনো পুরস্কার , সম্মান তাঁর ঝুলিতে আসেনি ।

কিন্তু সে পেয়েছে বহু ভালবাসা , স্নেহ । প্রতাপ বলে , “আড়ালে থাকতেই বেশি পছন্দ করি । সকলের সাথে আড্ডা , নতুন নতুন কবিতার বই পড়া , গ্রামগঞ্জে ঘুড়ে বেড়ানোয় আমি জীবনে বেঁচে থাকার রসদ জোগাই” ।

close