ট্র‍্যাফিক পুলিশের তৎপরতায় ‘হারানো মেয়ে’ পেলো বাবা

রাজীব : ‘পুলিশ যখন বন্ধু’- সাধারণ মানুষের পাশে থাকার একাধিক উদাহরণ তৈরী করে চলেছে কোলকাতা পুলিশ, এমন কি ট্র‍্যাফিক পুলিশ ও। নিজেরদের ব্যক্তিগত জীবন তোয়াক্কা না করে সাধারণ দিন থেকে উৎসব সবেতেই তৎপর এই অতীন্দ্রপ্রহরীরা। শুধু অপরাধ দমন নয়, সাধারণের সমস্যায় ও বন্ধু এই পুলিশ ই। সম্প্রতি কোলকাতা পুলিশের সৌজন্যেই নিজের হারানো মেয়ে কে খুঁজে পেলো এক বাবা।

ঘটনার সুত্রপাত শনিবস্র সন্ধ্যাবেলা। এক মধ্য বয়সী ব্যক্তি কল্রজ স্ট্রিট চত্ত্বরে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ ক্র এসে হন্তদন্ত হয়ে জানান তিনি দক্ষিন ২৪ পরগণার মল্লিকপুরের বাসিন্দা। মেয়ে কে নিয়ে বই কিনতে এসেছিলেন। হঠাৎ-ই মেয়ে কে খুঁজে পাচ্ছেন না। ঘটনার কথা সাথে সাথে জানানো হয় বড়বাজার থানায়। থানার তরফে হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডে কে জানানো হয় যে ষোলো বছর বয়সী একটি মেয়ে নিরুদ্দেশ।

হারিয়ে যাওয়া মেয়েটির কাছে কোনো মোবাইল ফোন ছিল না। কোনো ছবিও ছিল না তার বাবার কাছে। শুধু একুটু জানা যায় যে তাঁর পরনে ছিল লাল প্রিন্টেড জামা। হারিয়ে যাওয়া মেয়েটির খবর হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডের সমস্ত অফিসারদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ওয়্যারলেস সেটের মাধ্যমে। শুরু হয় খোঁজাখুজির পালা। ফল মেলে দ্রুতই। হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডের সার্জেন্ট সুদিশ কুমার দাস পাগেয়া পট্টির কাছে লাল প্রিন্টেড জামা পরা একটি মেয়েকে দেখতে পান। ভয় এবং চিন্তা তাঁর মুখে ছিল স্পষ্ট। সার্জেন্ট সুদিশ কুমার দাস তাঁর কাছে যান এবং তাকে আস্বস্ত করেন। জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে জানা যায় যে মেয়েটি ২৪ পরগনার মল্লিকপুরের বাসিন্দা এবং বাবার সাথে বই কিনতে এসে অচেনা শহরে হারিয়ে গেছেন।

মেয়েটিকে হাওড়া ব্রিজ ট্রাফিক গার্ডের আউটপোস্টে নিয়ে আসেন সার্জেন্ট সুদিশ কুমার দাস। কিছু খাবার ও জলের ব্যবস্থা করা হয় তাঁর জন্যে। খবর দেওয়া হয় বড়বাজার থানায়। থানার আধিকারিকদের সাথে সেখানে দ্রুত পৌঁছে যান মেয়েটির বাবাও। দুশ্চিন্তার অবসান ঘটিয়ে, হারানো মেয়েকে ফিরে পেয়ে অবশেষে বাবার মুখে ফেরে স্বস্তির হাসি।

close