ফিট থাকুন প্রেগনেন্সির পরবর্তী সময়ে

অন্বেষা দাস (কলকাতা) : প্রেগনেন্সির সময়কাল সমস্ত নারীর জীবনেই গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত নারীরা এই সময়টিকে উপভোগ করেন। কিন্তু প্রেগনেন্সির পরবর্তী সময়কালটি কঠিন হয়ে দাঁড়ায় ফিটনেসের ক্ষেত্রে।

প্রেগনেন্সির সময়ে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি ইনটেক করতে হয় সেই জন্য স্বাভাবিকভাবেই ওজন ও বেড়ে যায়।এই সময়ে যেকোনো হেভি ওয়ার্ক আউট বা ব্যায়াম করতে ডাক্তাররা বারণ করেন এবং প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিতে বলেন।

সেই জন্য যে পরিমাণ ক্যালোরি ইনটেক হয় সেই পরিমাণ ক্যালোরি ক্ষয় হয় না। এই সব কারণে ফিটনেসের দিকে খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না।

অনেকের ক্ষেত্রে প্রেগনেন্সির সময়ে যে পরিমাণে ওজন বেড়ে যায়, তা ডেলিভারির পরে কমার জায়গায় উল্টে বেড়ে যায়। যেসব মায়েরা ব্রেস্ট ফিড করান তাদের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে যাওয়ায় সম্ভবনা অনেক বেশি থাকে।

সিজারিয়ান ডেলিভারির ক্ষেত্রে ও তলপেটের অংশে মেদ জমে যায়। এই সময়ে ওজন কমাতেও অনেক সমস্যা হয় এবং তা সময়-সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়ায়।

প্রেগনেন্সির পরবর্তী সময়ে কতদিন পর ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ শুরু করা উচিত তা নিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা অত্যন্ত জরুরি। সেই সমন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হল – প্রেগনেন্সির পরে এক্সারসাইজ শুরু করাটা মূলত ডেলিভেরির উপর নির্ভর করে।

১) নর্মাল ডেলিভারি এবং সমস্যাবর্জিত প্রেগনেন্সি হয়ে থাকলে ১০-১৫ দিন পর থেকেই হালকা এক্সারসাইজ শুরু করা যেতে পারে। কিন্তু, নর্মাল ডেলিভেরি এর সময় যদি Laceration, Episiotomy/মিনি সার্জারি হয়ে থাকে, তাহলে ৪-৫ সপ্তাহ বিশ্রামের পরে হালকা এক্সারসাইজ করা যায়।

২) সিজার ও কম্প্লিকেটেড প্রেগনেন্সির ক্ষেত্রে নির্ভর করে পেটের ৬টি স্তরের উপর। ৯-১০ সপ্তাহ পর হালকা এক্সারসাইজ এবং ১৪-১৮ সপ্তাহ পর ভারী এক্সারসাইজ শুরু করা যেতে পারে।

এই সময় পরামর্শ না মেনে এক্সারসাইজ শুরু করলে বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যেমন– রক্তক্ষরণ, ইনসিজনাল হার্নিয়া, ইনফেকশন, ব্যাক পেইন, মাসেল ইনজুরি ইত্যাদি হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিতে পারে।

প্রেগনেন্সি পরবর্তী সময়ে এক্সারসাইজ করলে তার অনেক ভালো ফল পাওয়া যায় , যেমন – ডিপ্রেশন থেকে মুক্তি, ওয়েট লস, স্টামিনা বাড়ায়, বডি টোন করতে সাহায্য করে, মানুষিক চিন্তা কমাতে সাহায্য করবে এবং ঘুমের পরিমাণও বৃদ্ধি করে।

close