বিক্ষোভে আবারও উত্তপ্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর!

অদিতি সরকার: ফের বিক্ষোভে উত্তপ্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে একযোগে বিক্ষোভে নামল এবিভিপি-এসএফআই। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের সামনে পোস্টার হাতে অবস্থান শুরু করেছেন এবিভিপি সমর্থকরা। পাশাপাশি একই দাবি নিয়ে এসএফআই সমর্থকরাও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। দু’পক্ষ মুখোমুখি হলে অশান্তি হতে পারে, তাই আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেছিল পুলিশ। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস চালু না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পড়ুয়াদের আন্দোলন চলবেই। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার স্কুল খোলার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এক শিক্ষক।

করোনা আবহ কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্কুল খুলছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনেই ক্যাম্পাসে ফিরছে পড়ুয়ারা। কিন্তু বাংলার পরিস্থিতি আলাদা। গত বছর স্কুল খুললেও কয়েকদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর সরস্বতী পুজোর পর সব ক্লাসের জন্য স্কুল খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে একইসঙ্গে যাতে আগের মতো স্কুল খুলে বন্ধ না করে দিতে হয়, সেই দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। এই স্কুল, কলেজ খোলার দাবিতে লাগাতার আন্দোলনে নেমেছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। অনেকে আবার আদালতের দ্বারস্থও হয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার একই দাবিতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পোস্টার, ব্যানার হাতে মিছিল চলেছিল। বৃহস্পতিবার ফের একই দাবিতে নামল এসএফআই। পাশাপাশি বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপিও ওই দাবিতে বিক্ষোভ দেখায়। কোনওরকম অশান্তি এড়াতে তৎপর ছিল পুলিশ। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রচুর পুলিশ দেখা যায়।এসএফআই-এবিভিপির মধ্যে সামান্য ঝামেলা শুরু হতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এড়ানো সম্ভব হয়নি। আক্রান্ত হয় পুলিশও। এবিভিপির তরফেও হুঁশিয়ারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খুললে তারা আন্দোলন চালিয়েই যাবে।

ওদিকে, এদিনই স্কুল-কলেজ খোলার দাবিতে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের করা হয়েছে জনস্বার্থ মামলা। এ নিয়ে মোট চারটি মামলা রয়েছে হাই কোর্টে। শুক্রবার ওই সব মামলার শুনানির সম্ভাবনা।

close